ভারতের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ভ্লগার অনুরাগ দোভাবাল গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরাসরি সম্প্রচারের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা দেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৭ মার্চ) দিল্লি–মিরাট মহাসড়কে। তখন প্রায় ৮০ হাজার দর্শক সরাসরি সম্প্রচারটি দেখছিলেন।
মোটরসাইকেল ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া অনুরাগ দোভাবাল কয়েক দিন ধরেই মানসিক সংকটের কথা প্রকাশ্যে বলছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ি চালিয়ে দেরাদুন থেকে দিল্লির দিকে যাচ্ছিলেন। ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন অনুরাগ। সরাসরি সম্প্রচারে তিনি বলেন, এখন এমন কেউ নেই যাকে ফোন করব। চলুন শেষবারের মতো একটি যাত্রা করি। কিছুক্ষণ পরই তিনি বলেন, এটাই বিদায়, এরপর দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দেন।
দুর্ঘটনার পরপরই সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, সড়কে আহত অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি এবং আশপাশের মানুষ তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে গাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি মিরাটের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। অনুরাগ দোভাবালের ব্যবস্থাপক রোহিত পান্ডে জানান, তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তার অবস্থার ওপর নজর রাখছেন। তিনি ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগে অনুরাগ দোভাবাল প্রায় দুই ঘণ্টার একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের মানসিক সংকটের কথা বলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভিন্ন জাতের এক নারীর সঙ্গে বিয়ে করার কারণে তার পরিবার বিয়েটি মেনে নেয়নি এবং তাদের বাড়িতে ঢুকতেও দেয়নি। এ কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, বিয়ের আগেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং পরে তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান।
তবে তার ভাই কালাম দোভাবাল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অনুরাগ সব সত্য বলছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুরাগ নিজের স্ত্রীকে প্রতারণা ও নির্যাতন করেছিলেন, যার কারণে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস








