সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

প্রথমবারের মতো মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে জার্মানি

জার্মানির ১৬টি রাজ্যের অন্যতম বাডেন–ভুর্টেমবার্গ রাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিক হিসাবে এগিয়ে রয়েছে প্রগতিশীল গ্রিন পার্টি। এ জয়ে জার্মানির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজ্যের সর্বোচ্চ পদ মুখ্যমন্ত্রীর পদে টার্কিস বংশোদ্ভূত মুসলিম জেম ওজদেমির বসতে যাচ্ছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, জয়ী হতে যাওয়া গ্রিন পার্টি পেয়েছে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট।

নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি পেয়েছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।অন্যদিকে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) পেয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। এটি এ রাজ্যে দলটির ইতিহাসের সর্বনিম্ন ভোট।

ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এফডিপি) পেয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বামপন্থী দল লিংকে পেয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। প্রাথমিক হিসাবে এ দুই দল রাজ্য পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব নাও পেতে পারে।ক্রেটশমানের উত্তরসূরি হচ্ছেন ওজদেমির

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভিনফ্রিড ক্রেটশমানের উত্তরসূরি হচ্ছেন জেম ওজদেমির। এআরডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সেই সম্ভাবনাই এখন বেশি।

ওজদেমির ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গ্রিন পার্টির সহসভাপতি ছিলেন এবং বিগত সরকারে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।গ্রিন পার্টির সহসভাপতি ফেলিক্স বানাশাক গণমাধ্যমকে বলেন, এ ফল দলে নতুন গতি এনে দেবে। এ ফলাফল আমাদের জন্য বড় ধরনের উৎসাহ ও সাফল্য।

আবার জোট সরকার

বর্তমানে বাডেন–ভুর্টেমবার্গে গ্রিন পার্টি ও সিডিইউর জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলের ধারা অনুযায়ী আবার এ দুই দলের মধ্যে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাই বেশি।

সে ক্ষেত্রে গ্রিন পার্টির নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হতে পারে। গ্রিন পার্টির প্রধান প্রার্থী মুসলিম নেতা জেম ওজদেমির সিডিইউকে নতুন করে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন।তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের জোট সরকারের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা উচিত। তার ভাষায়, গত এক দশকের অর্জনই হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মাপকাঠি।

সিডিইউর ভোট বেড়েছে

ম্যানুয়েল হাগেলকে প্রধান প্রার্থী করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সিডিইউ ২০২১ সালের তুলনায় বেশি পেয়েছে। বিগত নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ২৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। ৩৭ বছর বয়সী হাগেল ২০১৬ সাল থেকে রাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য। তিনি সিডিইউর সাধারণ সম্পাদক, সংসদীয় দলের নেতা এবং রাজ্য শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে নেওয়া সব সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তারই।

বিষয়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *