প্রায় ১৮ বছর জাতীয় দলের বিভিন্ন সংস্করণে খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন অভিজ্ঞ এ অলরাউন্ডার। তবে সব কিছু নীরবে সয়ে গিয়েছিলেন তিনি; কখনো মুখ খুলতে দেখা যায়নি। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ; এখন অবসর সময় কাটাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী সাবেক এ ক্রিকেটার। এরই মধ্যে ইউটিউবভিত্তিক পডকাস্ট ‘সিম্পলি সাঈদ’-এ খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হলো।
ক্যারিয়ারে কোচ হাথুরুর অবদান
হাথুরু কোচ ছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন, তুমি চারে ব্যাটিং করবে। এটা আমার জন্য অনেক ভালো সুযোগ ছিল। আমি তখন সাত-আটে ব্যাটিং করতাম। প্রথম ৯ বছর আমি ৭, ৮, ৯ নম্বরে ব্যাটিং করেছি। ২০২৩ সালে এসে আবার ৮ নম্বরে ব্যাটিং করেছি। হাথুরুর সঙ্গে আমার খুব ভালো সময় কেটেছে। ওর সঙ্গে আমার অনেক কথা হতো। ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে অনেক কথাবার্তা হতো। ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, যেটা পরবর্তী সময়ে কাজে লাগাতে আমার সুবিধা হয়েছে।
মিরপুরে অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া
আমি একটা ছোট্ট গল্প বলি, যা কেউ জানে না। আজ আমি এমন অনেক কথা বলব যা মানুষ জানে না। একদিন আমি বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় ছিলাম। আমি অনুশীলনের জন্য মিরপুর গিয়েছিলাম। যেহেতু জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সাধারণত ইনডোর উইকেট ব্যবহার করে, তাই আমি একাডেমির দিকে গিয়েছিলাম। আমি তাদের কাছে একটি উইকেট চেয়েছিলাম যাতে আমি একটু ব্যাট করতে পারি। তারা বলল, ‘ভাই, কোনো অনুমতি নেই।’ আমি সেদিন মাথা নিচু করে চলে গেলাম। আর অনুশীলন করিনি। আমি আল্লাহর পরিকল্পনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমি শুধু আমার নিজের মতো করে চেষ্টা করেছি। আমি যতটা সম্ভব শান্ত জায়গায় অনুশীলন করেছি।
কোচ সুজনের অবদান
আমি যখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলি, তখন থেকে সুজন ভাইকে চিনি। আমি সুজন ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ দিয়ে বলতে চাই, এর আগেও উনাকে বলেছি। আমার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে উনার বড় ধরনের একটা প্রভাব আছে। আমি যখন অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে শুরু করলাম। বেশিরভাগ সময় প্রিমিয়ার লিগে উনি যে দলে খেলতেন, সেই দলে তিনি আমাকে নিতেন…। আমি এখনো উনাকে সম্মান করি। আমি বিশ্বাস করি আমার ওই কৃতজ্ঞতাবোধটা এখনো আছে, থাকবে। আমি যতদিন বেঁচে আছি, থাকবে।
অধিনায়ক মাশরাফী যেমন
আমি জানি না, এটা আগে কেউ বলেছে কি না। মাশরাফি ভাইয়ের সফল হওয়ার কারণ ছিল অধিনায়ক কিংবা লিডার হিসেবে তিনি কখনো ইগো দেখাননি। এটা তার স্পেশালিটি। সবাই তাকে ভালো বাসতেন, সবাই তাকে বিশ্বাস করতেন। এজন্যই দল ভালো করেছে।
২০১৯ বিশ্বকাপে ব্যর্থতা
২০১৯ বিশ্বকাপে আমাদের ভালো কিছু করার সামর্থ্য আছে আমরা আশাবাদী ছিলাম। সাকিব দুর্দান্ত ছিল। ও আইপিএলে ছিল। কিছু ম্যাচ খেলেনি। আমরা চলে গিয়েছিলাম আয়ারল্যান্ডে। সাকিব এলো। আমি দেখে বললাম কী করেছ তুমি। সে বলল আমি নিজেকে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করেছি। ওর শারীরিক ভাষা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করবে এবং সে সেটা করে দেখিয়েছে। আমরা দল হিসেবে তাকে সাপোর্ট দিতে পারিনি।
মুস্তাফিজ ইস্যুতে বিশ্বকাপে না যাওয়া
মুস্তাফিজের জন্য বিসিবি যে স্ট্যান্ড নিয়েছে, এটার প্রশংসা করতেই হয়। একটা প্লেয়ারেরও স্বপ্ন থাকে, আমি বিশ্বকাপে খেলব। আমি অনুশীলন করছি, বিশ্বকাপে যাব আমি আগে বিশ্বকাপ খেলিনি। অবশ্যই এখানে অন্য আরও বিষয় ছিল, কূটনৈতিকভাবে ঠিকমতো যায়নি, তাই এ সিদ্ধান্তটা এসেছে।
সম্প্রতি বোর্ড পরিচালকের ক্রিকেটারদের অপমান
আমি মনে করি না, এটা ভালো জিনিস। আপনি বোর্ড পরিচালক হয়ে এরকম মন্তব্য করতে পারেন না। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। প্লেয়াররা যে স্ট্রাইক করেছিল, এটা সঠিক কাজ ছিল। প্লেয়ার হিসেবে আমি মনে করি, এটা আমাদের রাইট।








