ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি ট্রাম্প প্রশাসনে প্রথম বড় ধরনের পদত্যাগের ঘটনা। যা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা)’ জোটের প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারকদের মধ্যকার ফাটলকে সামনে এনেছে।
মাত্র সাত মাস দায়িত্ব পালনের পর জো কেন্ট তাঁর পদত্যাগের ঘোষণাটি দিয়েছেন এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘বিবেক বিসর্জন দিয়ে আমি ইরানে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান আমাদের জন্য কোনো হুমকি ছিল না। ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী আমেরিকান লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি।’
ট্রাম্পের এক সময়কার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং ইরান যুদ্ধের অন্যতম বড় সমালোচক সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন তাৎক্ষণিকভাবে কেন্টের সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন টকার কার্লসন এবং ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মতো রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকাররা। এক্সে টেলর গ্রিন লিখেছেন, ‘তারা (ট্রাম্প প্রশাসন) এখন জো কেন্ট সম্পর্কে মিথ্যা ছড়াবে। তাঁকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করবে। সেই মিথ্যায় বিশ্বাস করবেন না। কেন্ট একজন মহান আমেরিকান বীর। তিনি ১১টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং একজন গোল্ড স্টার হাসব্যান্ড (যুদ্ধে স্ত্রীকে হারানো স্বামী)।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারীরা এরইমধ্যে কেন্টকে আক্রমণ করতে শুরু করেছেন। ট্রাম্পের সাবেক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস সহকারী টেইলর বুডোউইচ কেন্টকে একজন ‘উন্মাদ অহংকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুডোউইচ বলেছেন, এটি কোনো নীতিগত পদত্যাগ নয়, বরং চাকরি হারানোর আগে কেবলই আলোচনায় আসার চেষ্টা।
মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেও কেন্টকে আক্রমণ করে বলেছেন, ‘আমি সবসময়ই ভেবেছি সে নিরাপত্তার বিষয়ে দুর্বল। তার বেরিয়ে যাওয়াটাই ভালো হয়েছে।’
‘অন্তহীন যুদ্ধের’ বিরোধিতা
জিটিও লিখেছে, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস আমেরিকান জনগণকে বোঝাতে চায়, কেন্ট অযোগ্য এবং একজন তথ্য ফাঁসকারী ছিলেন। তারা দাবি করছেন, কেন্টের এমন অবস্থান মাগা জোটের উচ্চস্তরে অসন্তোষের প্রতিফলন নয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম আরও লিখেছে, হোয়াইট হাউস আরও বিশ্বাস করাতে চায়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সবাই চলমান যুদ্ধে ট্রাম্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন এবং মন্ত্রিসভার মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। কিন্তু কেন্টের পদত্যাগ দেখিয়ে দিল বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।








