মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেয়ার ‘মিথ্যা’ অপবাদ দিয়ে নিয়াশা চন্দ্র দাস (৫৭) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে ও থাপ্পড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ; তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যজন পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিয়াশা দাসের মৃত্যু হয়। নিহত নিয়াশা উপজেলার কলমা ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকার মনীন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মৎস্যজীবী ছিলেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী অসিম দাসের স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেয়ার অভিযোগ তুলে তার দেবর মহাদেব দাস গত সোমবার রাতে নিয়াশা চন্দ্র দাসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গুরুতর আহত নিয়াশাকে দাসপাড়া হরি সভা মন্দিরের সামনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে মহাদেবের সহযোগী মাহবুব তাকে পুনরায় থাপ্পড় মারলে তিনি পাকা রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় মেয়ে উর্মিলা মন্ডল বলেন, আমার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এতিম হয়ে গেলাম। বাবা মাছ ধরে আমাদের সংসার চালাতেন। এখন আমাদের কী হবে? আমরা এই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
যার ঘরে উঁকি দেয়ার অভিযোগে এই হত্যাকাণ্ড, সেই গৃহবধূ পূজা দাস অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমার দেবর মহাদেব অনেকদিন ধরে আমাকে বিরক্ত করত। আমার সম্মানহানি করতে এবং আমাকে ফাঁসাতে এই মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে। যাকে মারা হয়েছে তিনি আমার বাবার বয়সী। তিনি ওই রাতে আমাদের বাড়ির আশপাশেও আসেননি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত মহাদেবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে সহযোগী মাহবুব ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় মহাদেব নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।








