ভোলার বিসিকে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৯৭৪ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তেল মজুতের অপরাধে ময়দা ও মুড়ি উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল উদ্দিন খান নামের এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে বেকারি তৃষ্ণা ফুডসের মালিক মো. জুয়েলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাঁর তেলের ঘরও সিলগালা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচলনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিকে অভিযান চালিয়ে ডিজেল মজুত পাওয়া গেছে। এসব তেল মজুতের জন্য মজুতদারের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জামাল উদ্দিন জানান, তিনি তেল মজুতের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, প্রতিদিন কারখানার মালামাল উৎপাদন ও পরিবহনের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোনো দিন তেল পাচ্ছেন, কোনো দিন পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তিনি।
তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনুমতি পেয়ে তেল মজুত করেছিলেন দাবি করে জামাল উদ্দিন বলেন, তাঁর মতো বিসিকের অনেক কারখানার মালিক জ্বালানি তেলের সংকটে ভুগছেন। পরে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতিক্রমে গত সোমবার ইলিশা অ্যাগ্রোর নামে তাঁরা তেল সংগ্রহ করে সবার মধ্যে চাহিদামতো বণ্টন করেছেন। কাকে কত লিটার তেল দিয়েছেন, তার হিসাবও প্রশাসনের লোকজনকে দিয়েছেন বলে জানান জামাল।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক শামীম রহমান বলেন, জামাল উদ্দিন তাঁর মুড়ি ও ময়দার মিল পরিচালনা ও মালামাল পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ৩০০ লিটার তেলের আবেদন করেছিলেন। আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি ১৩-১৪ দিনের জ্বালানি তেল মজুত করতে পারবেন। বর্তমানে দেশে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। আগে যেখানে একজন এক লিটার তেল কিনতেন না, এখন সেখানে পাঁচ–ছয় লিটার পর্যন্ত কিনছেন। কেউ আগে সাপ্তাহিক চাহিদা অনুযায়ী কিনলেও এখন প্রতিদিন পাম্পে গিয়ে তেল নিচ্ছেন এবং মজুত করছেন। এ প্রবণতার কারণে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।








