নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ঢাকায় একটি বিশেষ ‘প্রবাসী সিটি’ বা স্মার্ট সিটি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং পরবর্তীতে দেশের জেলা পর্যায়ে প্রবাসী সিটি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যা ণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ২ কোটির বেশি প্রবাসী রয়েছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রবাসিীদের বড় ভূমিকা নিতে হবে। সরকার অভিবাসন কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে, এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। বিদেশে আমাদের যে ডায়াসপোরা আছে তাদের কাজে লাগাতে হবে, এটি করতে হবে আমাদের মিশনগুলোকে।
দ্রুত সাড়াদানের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি বলেন, দ্রুত দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মিশনগুলোর রেসপন্স কম দেখি। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অনেক শ্রমিক, তাদের সহায়তা করার দায়িত্ব নিতে হবে
ল ফার্মের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। তাদের সহায়তা করার জন্য ৮-১০ দেশে ল ফার্ম কাজ করছে। এই ফার্মগুলো প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের দায় দেখছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে ভিসা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দায় আছে। অবৈধ পথে বিদেশ গমন, এক দেশে গিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া। বাংলাদেশিদের ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি দেশের ইমেজ সংকটে ফেলে। প্রবাসীদের নেতিবাচক কাজ দেশের ইমেজে প্রভাব ফেলে।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনার জবাব দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, মিশন ঠিক মতো কাজ করছে না, এটা ঠিক না। বিগত সময়ের সরকারগুলো তাদের সেই ক্ষমতায়ন করেনি। মিশন কাজ করছে। এই যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে প্রবাসীদের সহায়তা করছে, যুদ্ধ অবস্থায় প্রবাসীর সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছে।
এ সময় শামা ওবায়েদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গ নিয়ে এত সমস্যা। তাদের মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হচ্ছে বিশ্বে। আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। পাশাপাশি আমরা সংস্কৃতি ও স্পোর্টস কূটনীতিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি; এগুলোর মাধ্যমে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পায়ের ছাপ রাখতে পারি। সার্ককে গতিশীল করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের ব্র্যান্ডিং করতে পারি, কানেকটিভিটি বাড়ানো যায়। বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আমাদের ইয়ুথদের কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। এনআরবি সেন্টারের চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।








