বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সবশেষ

মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বিপদের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে—রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে, যা ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নে বড় বাধা সৃষ্টি করবে। এমনকি এ নির্বাচনে ট্রাম্প কারচুপির চেষ্টা করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্ন নিয়েও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনের পর তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকায় ডেমোক্র্যাট নেতারা সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তাকে এখন মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেন।

আসন্ন নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দলের জন্য নানা কারণে চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে।

অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি ও পররাষ্ট্র নীতিতে অসন্তোষের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

চার দিন ধরে পরিচালিত এই জরিপ গত সোমবার শেষ হয়। এতে দেখা যায়, বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। এর আগে ১৫ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রয়টার্স/ইপসোসের আরেকটি জরিপে এ হার ছিল ৩৬ শতাংশ।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। তবে এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমেছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা লাগে।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকাকে মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন। আগের রয়টার্স/ইপসোস জরিপে এ হার ছিল ২৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হয়। জরিপে স্বতন্ত্র ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে রেখেছেন। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছে ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার। প্রতি চারজনের একজন বলেছেন, তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

ট্রাম্পের জন্য আরেকটি ভীতি জাগানো ঘটনা হলো ইরানের সঙ্গে সংঘাত। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম এবং বিভিন্ন বিষয়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘সেভ আমেরিকা’ নামে ভোটের আইন নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যা নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা দিতে পারে।

সবচেয়ে ভয়ের কারণ হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য সিনেট বা হাউসের নিয়ন্ত্রণ হারানো বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে, যা ট্রাম্পের অভিশংসনের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

এ ছাড়া অভিবাসন নীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে।

এসব কারণে ট্রাম্প আগ্রাসী হয়ে উঠছেন। এ জন্য পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন ডেমোক্র্যাটরা। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জো মরেল জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে একটি কমিটি সম্ভাব্য ১৫০টি ভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে, যেখানে ভোটকেন্দ্রে অভিবাসন বাহিনী মোতায়েন, ডাকযোগে ভোট বাতিল বা ব্যালট বাক্স জব্দ করার মতো আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও এসবের অনেক কিছু আগে কখনো ঘটেনি, তবু তারা প্রস্তুতি রাখছেন।

ডেমোক্র্যাটরা ভয় পাচ্ছেন যে, ট্রাম্প ভোট চলাকালীন এবং ভোট গণনার সময়—উভয় ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করতে পারেন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচন পাল্টে দেওয়া বা বড় ধরনের জালিয়াতি করে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ২০২০ সালেও তিনি সফল হননি। কিন্তু তিনি যা পেরেছেন তা হলো—গণতান্ত্রিক জয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা। তবে আশার কথা হলো, ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ড ডেমোক্র্যাট ভোটারদের আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *