শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

সবশেষ

ব্যক্তিগত দ্বীপে এপস্টেইনের অদ্ভূত ‘মন্দির’, মক্কা থেকে সংগ্রহ করেন গিলাফ-কিসওয়া

ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত দ্বীপে একটি অদ্ভুত স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন বিতর্কিত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন, যেটিকে তিনি নিজেই ‘মন্দির’ বলে উল্লেখ করতেন। সম্প্রতি প্রকাশিত নথিপত্রে উঠে এসেছে, শুধু ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি, পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ ও কিসওয়াও সংগ্রহ করেছিলেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ডে অবস্থিত এপস্টেইনের ওই দ্বীপে একটি নীল-সাদা ডোরাকাটা ভবন নির্মাণ করা হয়। চতুষ্কোণ আকৃতির এই স্থাপনাটির উপরে ছিল সোনালি রঙের একটি গম্বুজ। বিভিন্ন যোগাযোগে তিনি একাধিকবার এই ভবনটিকে ‘মসজিদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একটি চিঠিতে, যেখানে তিনি উজবেকিস্তানের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভবনের জন্য টাইলস নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছিলেন, সেখানে লিখেছিলেন, এটি দেখতে হবে পুরনো ধাঁচের এবং মসজিদের অভ্যন্তরীণ দেয়ালের জন্য উপযোগী। এই মন্তব্য থেকেই ভবনটির ধর্মীয় অনুপ্রেরণা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়।

তবে বাস্তবে এটি নামাজ বা ধর্মীয় উপাসনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে কেউ এটিকে সংগীতকক্ষ, কেউ প্যাভিলিয়ন, আবার কেউ গোপন উপাসনালয় বলে ধারণা করে এসেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে এপস্টেইন নিজেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি’ বলে উল্লেখ করতেন, যা এই রহস্যকে আরও জটিল করে তোলে।

নথি থেকে আরও জানা যায়, আরবি ও ইসলামি শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি এপস্টেইনের বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন। বিভিন্ন ছবিতে তাকে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা গেছে, কখনও ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায়, কখনও ব্যক্তিগত পরিবেশে।

এপস্টেইন ইসলামি ঐতিহ্যের নানা মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো প্রদর্শন করতেন বিশেষভাবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তিনি এসব জিনিস ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, তার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্সিয়ান গালিচা রয়েছে, যা কোনো একটি মসজিদ থেকে সংগৃহীত।

২০১৭ সালে প্রকাশিত আরেকটি নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজপরিবারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি কাবা শরিফের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এর মধ্যে ছিল, কাবার অভ্যন্তরের গিলাফ, বাইরের কালো কিসওয়া এবং মক্কার বিশেষ কারখানায় তৈরি সংশ্লিষ্ট কাপড়।

একটি ই-মেইলে সৌদি প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এসব নিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছিল, কিসওয়ার একটি অংশ অন্তত এক কোটি মুসল্লির স্পর্শ পেয়েছে, যেখানে তারা তাদের প্রার্থনা, অনুভূতি ও অশ্রু নিবেদন করেছেন।

কাবার গিলাফ ও কিসওয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর নতুন করে এটি তৈরি করা হয় এবং পুরনো অংশ সংরক্ষণ বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হয়। সেই পবিত্র বস্তুগুলো এপস্টেইনের মতো কুখ্যাত ব্যক্তির হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

২০১৯ সালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার হন এপস্টেইন। একই বছরের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এদিকে, ২০১৭ সালের হারিকেন মারিয়ার আঘাতে দ্বীপের ওই রহস্যময় ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেখানে সংরক্ষিত কাবার পবিত্র নিদর্শনগুলোর বর্তমান অবস্থান বা সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *