মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

সবশেষ

মালয়েশিয়ায় রেমিট্যান্সযোদ্ধা মনিরের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, দেশের বাড়িতে শোক!

পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার তরুণ মো. মনির হোসেন (২৮)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মালয়েশিয়ায় তার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য ও শোকের আবহ।

গত শনিবার (২ মে) মালয়েশিয়ার কেলাং দক্ষিণ বন্দরে নিজ কর্মস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে একটি কারখানায় নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন মনির।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ সালের দিকে প্রায় ছয় লাখ টাকা ঋণ করে কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় যান তিনি। প্রবাসে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সংসারের হাল ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন এই তরুণ। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় যথারীতি ডিউটিতে যোগ দেন তিনি। তবে পরদিন সকালে কর্মস্থলের ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

মনিরের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, তার মরদেহ হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় ছিল এবং গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পাশের কক্ষের পাঁচজন বিদেশি কর্মী নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত ঘটনা, তা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রবাসী ও স্বজনদের একাংশ এ রিপোর্ট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মনিরের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়ি মধুখালীর বনমালিদিয়া মিয়াপাড়ায় পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাসন্তানকে রেখে তার এমন অকাল বিদায়ে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে। ঋণের চাপ আর প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা এই মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

বর্তমানে মরদেহটি মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে। তার বড় ভাই মো. কামরুল শেখ, যিনি একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের কাজ করছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *