শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

সুইজারল্যান্ডে নদী থেকে খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা অঞ্চলে রাইন নদী থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন তিনি। তদন্তকারীদের ধারণা, মরদেহটি টুকরো করে বিভিন্ন ব্যাগে ভরে নদী ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

সুইজারল্যান্ডের রাইন নদীর তীরে এক ব্যক্তির মরদেহের অংশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিহত ব্যক্তি ৩৩ বছর বয়সী বুরুন্ডির নাগরিক। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে, যিনি নিহতের রুমমেট ছিলেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটররা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার নিহত ব্যক্তির পরিচিতজনেরা তাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। এর পরদিন রাইন নদীর কাছে একটি ব্যাগের ভেতর মানুষের একটি পা দেখতে পান তারা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শুরু হয় তল্লাশি।

পরে ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে একাধিক ব্যাগ থেকে মরদেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আলামত থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।

আশ্রয়কেন্দ্রে তল্লাশি, গ্রেপ্তার বাংলাদেশি

মরদেহের অংশ উদ্ধারের পর তদন্তের সূত্র ধরে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাসকারী ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিককে সন্দেহের আওতায় আনা হয়।

আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ জোরালো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় আরগাউ ক্যান্টনের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির দেহ টুকরো করে কেটে বিভিন্ন আবর্জনার ব্যাগে ভরে ফেলা হয়েছিল। এসব ব্যাগের কিছু রাইন নদীতে এবং কিছু নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের প্রমাণ নেই

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য ছিল, এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তদন্ত চলাকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তির মধ্যে মানসিক অসুস্থতার লক্ষণও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। সূত্র: এএফপি, আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *