শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

সবশেষ

ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও উন্নত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ইগল’ মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতোমধ্যে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। অনুমোদন মিললে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘটনা।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তিতে অগ্রসর হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো তা পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হিসেবে ঘোষণা করেনি।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো এমন স্থানে সরিয়ে নিয়েছে, যা বর্তমানে ব্যবহৃত ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর সীমার বাইরে। প্রায় ৩০০ মাইল পাল্লার এই অস্ত্র দিয়ে নির্ভুল হামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে, দ্রুতগতির এবং দীর্ঘপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি হোয়াইট হাউস।

এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে আলোচনার চেষ্টা হলেও তা স্থবির হয়ে পড়ে। ইরান সরাসরি আলোচনায় অনাগ্রহ দেখালেও ২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

ইরানের অবস্থান স্পষ্ট, হরমুজ প্রণালী ও তাদের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। সেখানে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর না করে, তাহলে কোনো শান্তি চুক্তির প্রশ্নই আসে না। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সেই পর্যন্ত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

অচলাবস্থা নিরসনে নতুন কৌশল হিসেবে সেন্টকম একটি সীমিত কিন্তু শক্তিশালী সামরিক হামলার পরিকল্পনাও তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *