মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রবিনিও জুনিয়রকে মারধরের অভিযোগে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন নেইমার!

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের জন্য সময়টা যেন একের পর এক বিতর্কেই ঘেরা হয়ে উঠছে। ফিটনেস সমস্যা, ক্লাব ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা আর জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপের মধ্যেই এবার নতুন করে যোগ হয়েছে সতীর্থকে মারধরের অভিযোগ।

ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসের অনুশীলনে গত রোববার (৩ মে) ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের জন্ম। অভিযোগ উঠেছে, অনুশীলনের সময় ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রবিনিও জুনিয়রকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন নেইমার, যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাব ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।

জানা গেছে, অনুশীলনের একপর্যায়ে তরুণ এই ফরোয়ার্ড ড্রিবল করে নেইমারকে কাটিয়ে যান। বিষয়টি ভালোভাবে না নিয়ে নেইমার এটিকে অসম্মান হিসেবে দেখেন এবং তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখান। একাধিক সূত্রের দাবি, উত্তেজনার মুহূর্তে তিনি পা দিয়ে ধাক্কা দেন, যা পরে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে সতীর্থরা হস্তক্ষেপ করে দু’জনকে আলাদা করেন।

ঘটনার পর রবিনিও জুনিয়র মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানা গেছে। ব্রাজিলের গণমাধ্যমের তথ্যে উঠে এসেছে, তিনি ক্লাব পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনকি চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনাও আলোচনায় আনতে চান বলে জানা গেছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার থেকে শুরু করে শারীরিক আঘাত করেন। এমনকি চড়ও মারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি নেইমার বা তার প্রতিনিধিরা।

তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মোড় নেয় পরে। সূত্রগুলো বলছে, উত্তেজনা কমে গেলে নিজ থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন নেইমার। তিনি ফোনে যোগাযোগ করেন রবিনিও জুনিয়রের সঙ্গে এবং তার পরিবারের কাছেও দুঃখপ্রকাশ করেন।

এদিকে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনায় তাদের আইন বিভাগ এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তরুণ এই ফরোয়ার্ডের বাবা রবিনিও একসময় ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের সতীর্থ ছিলেন। গত গ্রীষ্মে মূল দলে জায়গা পাওয়া রবিনিও জুনিয়র চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *