বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক চুক্তি সবসময়ই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং এতে দুই দেশের স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনা করেনি, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি বহাল রয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয়, যা ইচ্ছামতো বাতিল করা যায়। বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যাকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজে লাগানোই লক্ষ্য।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া একটি তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এমন তদন্ত না হলে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক থাকত।
দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা নেই এবং ডাম্পিংয়ের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হয়, যেখানে শ্রম আইন বা শিশুশ্রমের প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ চুক্তির ভেতরেই রয়েছে। তিনি এটিকে একটি ‘স্বয়ং-সংশোধনযোগ্য’ কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা সম্ভব।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় মো. আবদুর রহিম খান-ও উপস্থিত ছিলেন।








