মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

সবশেষ

আমরা হারিনি, কেন পদত্যাগ করব— প্রশ্ন মমতার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। ফলাফল মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, এই নির্বাচনে প্রকৃত ফল প্রতিফলিত হয়নি; বরং ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, আমরা হারিনি, ভোট লুট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১০০টি আসনে অনিয়ম হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

সোমবার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৩ আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। তবে এই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে মমতার অভিযোগ, গণনার সময় থেকেই বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও অনিয়ম শুরু হয়।

তিনি দাবি করেন, গণনা শুরুর পর কিছু গণনাকেন্দ্রে বিজেপি কর্মীরা প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এমনকি নিজের আসনেও এগিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ফল পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন তিনি। উল্লেখ্য, ভবানীপুর আসনে তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনসহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং বিরোধী শক্তিকে দমন করার চেষ্টা হয়েছে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান জানান মমতা। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কারণ তিনি পরাজয় মেনে নিচ্ছেন না। বরং আন্দোলনের পথেই থাকবেন বলে জানান। আমি রাস্তায় লড়াই করে এসেছি, আবারও রাস্তায় নামব, এভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন তিনি। জোটের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করে জানান, আগামী দিনে সম্মিলিতভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের শীর্ষ নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *