মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১৪ মে দিবাগত রাতে শাহ আলী মাজারে মুখোশধারী সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ দর্শনার্থীরা আক্রান্ত হয়েছেন। লাঠিসোঁটা নিয়ে চালানো এ হামলা ও লুটপাটকে তিনি ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান।
সেলিম উদ্দিন আহতদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে দলটির কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তার দাবি, কিছু গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক মহল প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতকে দায়ী করার চেষ্টা করছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং কোনো ঘটনার বিচার রাস্তায় নয়, আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত, এটাই দলটির রাজনৈতিক নীতি।
মিডিয়ার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন সেলিম উদ্দিন। তার ভাষ্য, হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পরও তাদের পরিচয় অনুসন্ধানের পরিবর্তে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে যায় না।
গ্রেফতার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ জানান তিনি। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে অন্য রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক বিবেচনায় জামায়াত-সমর্থকদের টার্গেট করছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতার পেছনে ‘দখল ও অর্থনৈতিক স্বার্থ’ কাজ করছে বলেও দাবি করেন জামায়াত নেতা। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাজারকে ঘিরে যে সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রতার চেয়ে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের বিষয় বেশি জড়িত।
তিনি প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনাগুলোর গভীরে গিয়ে প্রকৃত স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।








