মিসরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক নীতিবিষয়ক সম্মেলন থেকে এই আলোচনা শুরু হয়।
‘জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (JNS) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিট’-এ ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের নেতা ও হারুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী আমিয়াদ কোহেন একাধিক ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক পূর্বাভাস তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, ইরান ও তার আঞ্চলিক সহযোগীদের প্রভাব কমে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
কোহেনের মতে, এই পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মিসর ও তুরস্ক ভবিষ্যতে ইসরায়েল এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, মিসরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যতে মুসলিম ব্রাদারহুডের পুনরুত্থান ঘটতে পারে এবং একপর্যায়ে তারা ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে, এমন সম্ভাবনাকেও তিনি উড়িয়ে দেননি।
বক্তৃতায় কোহেন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু শিয়া শক্তি থেকে সরে সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন ও রাষ্ট্রগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে।
তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, এমন আশঙ্কা তার বক্তব্যে উঠে আসে।
এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতেও এ ধরনের রাজনৈতিক প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
তুরস্কের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন কোহেন। তিনি বলেন, আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব ইসরায়েলের জন্য ভবিষ্যতে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
একই সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন পোলার্ড। তিনি বলেন, ইরানের প্রভাব দুর্বল হলে তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
পোলার্ড আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যে ইরানের ভূমিকা কমে গেলে আঙ্কারা ও কায়রোর ভূরাজনৈতিক অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে ১৯৭৯ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ইসরায়েল–তুরস্ক সম্পর্ককে সময় সময় জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেএনএস সামিটে উত্থাপিত এসব মন্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরই প্রতিফলন।
এদিকে কোহেনের বক্তব্য ঘিরে ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণী মহলে সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে মিসর ও তুরস্ককে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হচ্ছে।








