বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য মালয়েশিয়াকে ঘিরে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। দক্ষ কর্মী পাঠানো বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে দেশটিতে সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পর বাংলাদেশি শ্রমশক্তির জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্য মালয়েশিয়া, ফলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতার আওতায় আনার বিষয়েও অনুরোধ জানানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সফরটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, নতুন ভিসা নীতিমালা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের প্রচলিত কয়েকটি শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগের গতি কমেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে আগের তুলনায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় বিকল্প ও স্থিতিশীল শ্রমবাজার ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। সেই বিবেচনায় মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।
বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফলে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরটির তাৎপর্য শুধু অর্থনীতি বা কর্মসংস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানেরও একটি বার্তা বহন করছে।
সব মিলিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরকে সরকারের নতুন অগ্রাধিকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।








