বিদেশফেরত প্রবাসীদের টার্গেট করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে চালকের বেশে অপেক্ষা করতেন আলামিন শেখ (৩১)। স্বল্প ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গাড়িতে তোলার পর সুযোগ বুঝে যাত্রীদের নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কৌশলে প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া আলামিন অবশেষে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ধরা পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
অভিযানে আলামিনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি চায়নিজ কুড়াল, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের ১৫টি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, তিনটি আইফোন, চারটি ট্যাব, সাতটি বাটন ফোন, ১০টি হাতঘড়ি ও ১১টি মানিব্যাগ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ৭৭টি মুদ্রার নোট এবং বাংলাদেশি এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা জব্দ করেছে পুলিশ।
কম ভাড়ার প্রস্তাব, এরপর গাড়ির ভেতরেই ছিনতাই
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে দেশে ফেরা প্রবাসীদেরই মূলত টার্গেট করতেন আলামিন। বিমানবন্দরের সামনে মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেট কার নিয়ে চালকের মতো অবস্থান করতেন তিনি।
প্রবাসীরা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তাদের গন্তব্যে কম ভাড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতো। সরল বিশ্বাসে কেউ গাড়িতে উঠলে নির্জন বা ফাঁকা জায়গায় নেওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তার কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
মালামাল নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ছয় মামলার আসামি
বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পুলিশ সুপার মো. হবীবুল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলামিন শেখ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আলামিনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাসানুর রহমান, গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক নয়ন চন্দ্র দেবনাথসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পৃথক অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার
এদিকে একই দিনে মুকসুদপুরে পৃথক একটি অভিযান চালিয়ে ৮০০ ইয়াবাসহ মাকসুদা (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির আরেকটি দল।
মুকসুদপুর উপজেলার রাগদী ইউনিয়নের টেকেরহাট উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাকসুদা উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের হরিশ্চর গ্রামের আবুবক্করের স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মাকসুদাকে আসামি করে মাদক আইনে একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।








