নেত্রকোনায় কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার মোহনগঞ্জে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা জানতে চেয়ে এক যুবককে গুলি করেছে মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী। ভোরে পুকুরঘাট থেকে সড়কে ওঠার পর তাদের হাতে অস্ত্র দেখে পালানোর চেষ্টা করেন সুজন পাল (৩৩)। তখন পেছন থেকে গুলি করা হয় তাকে। আহত সুজন বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার (তারিখ উল্লেখ নেই) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার পূর্বে পুকুরঘাটসংলগ্ন একটি পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রবাসীর ঠিকানা জানতে চাওয়ার পর গুলি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুজন পাল খালিয়াজুরি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জের ‘মনোরমা মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামের একটি দোকানে কাজ করেন। স্ত্রীকে নিয়ে মাইলোড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
ঘটনার সময় ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুতে বাড়ির পাশের পুকুরঘাটে যান সুজন। সেখান থেকে উঠে সড়কে আসার পর মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী তার কাছে দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন। ভয়ে সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কে পড়ে যান।
এরপর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে দেওথান কালীমন্দিরের দিকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন সুজনকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পিঠে গুলি, পাঠানো হয় ময়মনসিংহে
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার জানান, সুজনের পিঠে গুলি লেগেছে। সকালে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সুজনের স্ত্রী টুম্পা পাল বলেন, স্বামী পুকুরে হাত-পা ধুতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
টুম্পার ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্বামী জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী প্রথমে এক প্রবাসীর বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। তাদের একজন অস্ত্র বের করলে তিনি ভয়ে দৌড় দেন। তখনই তাকে পেছন থেকে গুলি করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের মুখ ঢাকা ছিল। আহত ব্যক্তি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার পিঠে গুলি লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় গুলির ঘটনা
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলী ফকির নিহত হন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই মোহনগঞ্জে আরেকটি গুলির ঘটনায় জেলায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে মোহনগঞ্জের ঘটনায় হামলাকারীদের উদ্দেশ্য কী ছিল, দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার ঠিকানা কেন জানতে চাওয়া হয়েছিল এবং সুজন পালকে লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার সঙ্গে ওই প্রবাসীর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি। তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।








