চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পেরিয়ে অক্টোবরের ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ১৫১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৩৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি মাসের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
প্রবাসী আয়ের এ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থবছরের শুরু থেকে এসেছে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরু থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম ভাগেই প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে আমদানি ও বৈদেশিক লেনদেনের ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা থাকায় প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এক দিনেই এলো ১১ কোটি ডলারের বেশি
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১৪ অক্টোবর এক দিনেই দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে অবদান রাখছে।
প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ সামলানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা, আমদানি ব্যয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিস্থিতিও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো বাড়ানো জরুরি
প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক ও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে যুক্ত হয়।
অন্যদিকে, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হলে সেই অর্থ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়। ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হুন্ডি প্রতিরোধ, প্রবাসীদের জন্য সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করা এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সুবিধাজনক করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ শক্তিশালী করতে সহায়ক। এই ধারা বজায় থাকলে অর্থনীতির বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ানো এবং প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।








