কুয়েতে আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে প্রবাসী কর্মী নিয়োগের সুযোগ আরও সংকুচিত হচ্ছে। এবার ভবনের দারোয়ান বা হারিস নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনো ব্যক্তিকে নিরাপত্তাকর্মী বা পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার আকামার বৈধতা, কাজের অনুমতি এবং প্রকৃত নিয়োগকর্তার পরিচয় যাচাই করতে হবে। নিয়ম না মেনে কাউকে নিয়োগ কিংবা আশ্রয় দিলে সম্পত্তির মালিকদেরও আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা মূলত নির্মাণাধীন ভবন, শ্যালেট, জাখুর বা পশু পালনের খামার এবং কৃষি খামারের মালিকদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনায় দারোয়ান নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ আবাসন ও কর্মসংস্থানের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দারোয়ান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির বৈধ আকামা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার নিয়োগকর্তা হতে হবে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক অথবা নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি।
শুধু আকামা থাকলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। নিয়োগের আগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পলাতক হওয়ার অভিযোগ, আদালতের কোনো রায় কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।
‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে কাজ করলেই বাড়ছে আইনি ঝুঁকি
কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রবাসী গৃহকর্মী বা খাদেম ভিসায় দেশটিতে প্রবেশের পর বাড়ি, দোকান, ভবন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। প্রবাসীদের কাছে এ ধরনের ব্যবস্থার পরিচিতি রয়েছে ‘ফ্রি ভিসা’ নামে। তবে কুয়েতের প্রচলিত আইনে ‘ফ্রি ভিসা’ নামে কোনো স্বতন্ত্র বৈধ ভিসা ক্যাটাগরি নেই।
এ ধরনের ব্যবস্থায় অনেক সময় কর্মীর ভিসা বা আকামার স্পন্সর থাকেন একজন ব্যক্তি, অথচ বাস্তবে তিনি কাজ করেন অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে। অনুমোদিত ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে গৃহকর্মীর ভিসায় এসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কিংবা কোনো ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মেয়াদোত্তীর্ণ আকামা নিয়ে দারোয়ানের কাজ
কুয়েতের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, নির্মাণাধীন ভবন ও খামারে দারোয়ানের দায়িত্ব পালন করছেন এমন অনেক প্রবাসী রয়েছেন, যাদের কারও কারও আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা কাজের বৈধ অনুমতি নেই।
নতুন সতর্কবার্তার পর এ ধরনের কর্মীদের নিয়োগ এবং তাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ শুধু অবৈধভাবে অবস্থানকারী কর্মীই নন, আইন লঙ্ঘন করে তাদের কাজে নিয়োজিত রাখা সম্পত্তির মালিকদের জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার অর্থ সব ধরনের দারোয়ান নিয়োগ বন্ধ করা নয়। বরং নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মীর বৈধ আকামা, অনুমোদিত কাজের ধরন এবং প্রকৃত নিয়োগকর্তার সঙ্গে আইনগত সম্পর্ক নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু আকামা থাকলেই মিলবে না কাজের বৈধতা
প্রবাসী কর্মীদের জন্যও এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আকামার মেয়াদ বৈধ থাকলেই যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায় না। কর্মীর ভিসার ধরন, স্পন্সর এবং কাজের অনুমোদনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।
নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে কিংবা অনুমোদন ছাড়া নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করলে কর্মীকে আইনি সমস্যায় পড়তে হতে পারে। একইভাবে কোনো ভবন বা সম্পত্তির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে কর্মী নিয়োগ করলে তাকেও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
কুয়েতে আবাসন ও শ্রম আইন বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের এই সতর্ক অবস্থান থেকে স্পষ্ট, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু পরিচয় বা আকামার কপি দেখেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। নিয়োগকর্তা কে, কর্মী কোন ভিসায় রয়েছেন এবং নির্দিষ্ট কাজটি করার আইনগত অনুমতি আছে কি না, সবকিছু যাচাই করেই নিয়োগ দিতে হবে।
ফলে কুয়েতে কর্মরত প্রবাসীদের পাশাপাশি বাড়ি, ভবন, দোকান ও খামারের মালিকদেরও নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।








