মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখাতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য শুধু কারিগরি দক্ষতা নয়, ভাষাগত যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ইতালিতে কর্মী পাঠানোর জন্য বর্তমানে যেসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতেও (টিটিসি) এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

অনুষ্ঠানে ইতালি দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা শেখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ইতালীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগে দেশটির দূতাবাসের সহযোগিতা নিতে চায় সরকার। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিদেশি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশে যাওয়ার আগে ভাষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণে গুরুত্ব
মাহদী আমিন বলেন, ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য চালু হওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সরকার আলাদা কোনো প্রকল্প হিসেবে দেখছে না। বরং এটিকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের উপযোগী একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইতালির অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুসরণ করে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশার দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষিত হয়ে ইতালিতে গেলে কর্মীদের কাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিখছেন। তাদের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণব্যবস্থায় নতুন ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

টিটিসি ও কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত হতে পারে ইতালীয় ভাষা
সরকারের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে ভাষা শিক্ষাকে যুক্ত করা। এ ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) কার্যক্রমে ইতালীয় ভাষা শেখানোর মডেল যতটা সম্ভব সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হবে।

মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু নিজেদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ বিদেশগামী কর্মীদের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন।

তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীদের আরও পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ বাড়বে।

বিদেশগামী কর্মীদের জন্য প্রবাসী কার্ডের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু করেছে। এর পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশে যাওয়ার সময় প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হবে। বিশেষ করে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে যেতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য ভাষাগত প্রস্তুতি ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *