বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে বাংলাদেশিদের দিতে হতে পারে ১৮ লাখ টাকা জামানত

মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ঠেকাতে ব্যবসায় ও পর্যটন ভিসায় জামানত নেওয়ার যে পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তা বাংলাদেশিদের জন্য কার্যকর হতে যাচ্ছে বুধবার থেকে।

সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনো ধরনের বন্ড পরিশোধ করার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড পরিশোধ করবেন না। আগাম বন্ড পরিশোধ করলে, তা ভিসার নিশ্চয়তা দেয় না এবং তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট প্রতারণামূলক হতে পারে।

“সাক্ষাৎকারের আগে পরিশোধ করা কোনো অর্থই ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বলছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের (বি১/বি২) ভিসার জন্য অনুমোদিত হবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার আমেরিকান ডলার পর্যন্ত একটি ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা তুলে ধরে বলা হয়, আগে ইস্যু করা বৈধ বি১/বি২ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়।

ব্যবসায় ও ঘোরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা পেতে যেসব দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘বন্ড’ দিতে হবে, সেই তালিকায় বাংলাদেশকে যুক্ত করে সম্প্রতি হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটি।

এর মানে হল, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড বা জামানত দিতে হবে।

কারো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জামানত ধার্য হলে বর্তমান বিনিময় হারে তাকে গুনতে হবে প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে ডট গভ এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতিও জানাতে হবে।

এ জামানতের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়। এই অর্থ ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ, ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে কিংবা ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় না থাকাসহ অন্যান্য শর্ত মেনে চললে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।

এ তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টের’ হিসেবে অভিহিত করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “কিন্তু এটা অস্বাভাবিক না।”

অস্বাভাবিক মনে না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না, অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলি আছে?

“যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের পরিসংখ্যান দেখেছেন যে, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে এভাবে গিয়ে পয়সা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক। তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর এরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।”

অভিবাসী নয় এমন দুই ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার কয়েক দিন পর আরেকটি খারাপ খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা ১৪ জানুয়ারি দিয়েছে দেশটি।

ব্যবসায় ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে জামানত নেওয়ার এই পাইলট প্রকল্প ২০২৫ সালের ২০ অগাস্ট থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে।

ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

ভিসার মেয়াদের বেশি থাকছেন কতজন?

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের (সিবিপি) তথ্য বলছে, ২০২৪ অর্থবছরে ব্যবসায় ও পর্যটন ভিসায় যাওয়া ৩৮ হাজার ৫৯০ জন বাংলাদেশির যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পরিসংখ্যান আছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২১৩ জন ভিসার মেয়াদের বেশি অবস্থান করেছেন, যা মোট সংখ্যার ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর হিসাব হয় অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর মেয়াদে। সে হিসাবে ২০২৪ অর্থবছরের সময় ১ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত।

২ হাজার ২১৩ জনের মধ্যে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন ৫১ জন। আর ২ হাজার ১৬২ জন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার তথ্য না মেলায় তারা ভিসার মেয়াদ শেষের পরও অবস্থান করছিলেন বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। এটি মোট সংখ্যার ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদের বেশি থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। সিবিপির হিসাবে, ২০২৪ অর্থবছরে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের তথ্য পাওয়া যায়নি, তাদের সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ২২ শতাংশ।

সিবিপির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরে শতকরা হিসাবে ব্যবসায় ও পর্যটন ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিদের মেয়াদের বেশি অবস্থানের হার ছিল মোট ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওই সময়ে ২৯ হাজার ৪১ জন বাংলাদেশির যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের কথা থাকলেও ১ হাজার ৯৯৩ জন ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত থেকেছেন।

এর মধ্যে ৫৪ জন মেয়াদ শেষ করে ২০২৩ অর্থবছরে ফিরেছেন। ওই অর্থবছরে মেয়াদ শেষ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি ১ হাজার ৯৩৯ বাংলাদেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *