হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর এখন পর্যন্ত বেইজিংয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করে চীন সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:
১. হুমকির কাছে মাথা নত না করা: চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কখনোই ট্রাম্পের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করার পক্ষপাতী নন। এর আগে গত বছর বাণিজ্য যুদ্ধের সময় ট্রাম্প যখন চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তখন বেইজিং দমে না গিয়ে বরং পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল। সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতেও শি জিনপিং যে সহজে ট্রাম্পের দাবি মেনে নেবেন না, তা বলাই বাহুল্য।
২. কূটনৈতিক অবস্থানের পরিপন্থী: চলমান এই যুদ্ধের শুরু থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং ক্রমাগত উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, ‘শক্তি প্রয়োগ কোনো সমাধান হতে পারে না’। এমন অবস্থায় নিজেরাই ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো চীনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।
৩. ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনা জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বেইজিং খুব একটা ঝুঁকি দেখছে না। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ও ইরানের সুসম্পর্কের কারণে চীনা জাহাজগুলো এখনও সেখানে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
ফলে নিজের জাহাজগুলো যদি নিরাপদ থাকে এবং ইরানের সাথে ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকে, তবে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ বেইজিংয়ের নেই।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প যে আশায় চীনের সহায়তা চেয়েছিলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। ট্রাম্পের এই চাপ বরং দুই পরাশক্তির মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে।








