কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদের মোহনা থেকে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
আটককৃত জেলেরা হলেন— মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আব্দুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামে।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর ফিরে আসা অন্য জেলেদের বরাত দিয়ে জানান, ভোর ৪টার দিকে বেশ কিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা নাফ নদের মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
সাবরাং ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আরাকান আর্মির ক্রমাগত হুমকির মুখে নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকার করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে চরম দুর্দিন নেমে আসবে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানার পর অপহৃত জেলেদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবি কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় জেলে সমিতির তথ্যমতে, গত দেড় বছরে সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে চার শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এরমধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও এখনো ৩২টি ট্রলারসহ ১৭২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।








