রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে ইরানের রাজনীতিবিদদের তোড়জোড়, কারণ কী

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বের হয়ে যেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন ইরানের রাজনীতিবিদেরা। তেহরান বলছে, দেশটির বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা, ইস্পাত কারখানা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক হামলার কারণে চুক্তিতে টিকে থাকা এখন ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশ হয়ে থাকা এখন আমাদের জন্য কোনো কাজে আসছে না।’

তেহরানের প্রতিনিধি মালেক শারিয়াতি বলেছেন, এ বিষয়ে একটি জরুরি বিল ইতিমধ্যে সংসদে জমা দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য তোলা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইরানের পার্লামেন্টে কোনো অধিবেশন বসেনি।

প্রস্তাবিত এই বিলে এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়াও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সব বিধিনিষেধ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। এর বদলে সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ও ব্রিকসের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়নে নতুন চুক্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে এই বিল সংসদে পাস হলেও তা কার্যকর করতে ইরানের ক্ষমতাধর গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন লাগবে।

জাতিসংঘ পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসিকে ‘অপরাধের সহযোগী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা না জানিয়ে গ্রোসি শত্রুদের উসকানি দিচ্ছেন, যা ইরানকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে।

সম্প্রতি আইএইএর প্রধান গ্রোসি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এ মন্তব্যকে উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে তেহরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *