বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর, কমতে পারে অভিবাসন ব্যয়

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুন করে খোলা নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছে এবং কমতে পারে অভিবাসন ব্যয়। এ বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে উভয়পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন-এর সাথে আরেকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সেখানে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিবাসন খরচ কমাতে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা সীমিত করা, নির্ভরযোগ্য নিয়োগ সংস্থা ব্যবহার এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া মালয়েশিয়া একটি প্রযুক্তিনির্ভর, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ব্যয় বহন নিশ্চিত করা হবে।

এর ফলে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-এর ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের জন্য শূন্য খরচ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে শ্রমিকদের শোষণ রোধ, মানবপাচারসংক্রান্ত মামলা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা, শিক্ষক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করে দুই দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *