রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগে। আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য কিউরিং করে রাখা হয়েছে। চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি এখনও। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি ঢালাই করা এই রাস্তায় এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে একাধিক ফাটল।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে বরমী সড়কে এ ফাটলের কারণে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল) অর্থায়নে রাস্তার এ কাজে অনিয়ম করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারের সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
টেন্ডারের মাধ্যমে আরিয়ান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে বরমী সড়কের ১২০ মিটার রাস্তা আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ পায়। গত ৪ মার্চ গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পৌর শহরের ব্যস্ততম এ সড়কের কাজ শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার মাঝখানে দেখা দেয় দীর্ঘ ফাটল।
আলী হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় রাস্তায় যানবাহন চলাচলের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে।
সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। ঢালাইয়ের সময় কোনো ত্রুটিও হয়নি। শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আক্তারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি রেগে যান। রোদের কারণে এমনটি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটাকে ফাটল বলে না। কিউরিং শেষ হলে আমরা আবারও ট্রিটমেন্ট করব। আরিয়ান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইমদাদুল হক হজ করতে সৌদি আরব রয়েছেন। ফলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর ইউএনও ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, এ উপজেলায় আমি বৃহস্পতিবার যোগদান করেছি। সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব। গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।








