চীন সফরে অবস্থান করেও ইরান ইস্যুতে নিজের কড়া অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ভোরে বেইজিং থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান থেমে নেই, বরং তা চলমান থাকবে। তার এমন বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন কি আবারও সরাসরি হামলার পথে হাঁটতে যাচ্ছে?
ট্রাম্পের ওই পোস্টে শুধু ইরান নয়, উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পতনের পথে থাকা রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। তার দাবি, নিজের প্রশাসনের গত ১৬ মাসে আমেরিকা বিশ্বমঞ্চে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজার ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে, অবসরভাতা তহবিল শক্তিশালী হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ইরান প্রসঙ্গ। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর যে ধ্বংসাত্মক চাপ তৈরি করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চীন সফরে যাওয়ার আগে থেকেই ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তিনি আগেই মন্তব্য করেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবার সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা এখনও চলমান এবং কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিতও রয়েছে। তবে মূল সংকট রয়ে গেছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না, এই শর্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের চীন সফরের প্রথম দিনে প্রকাশ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় কোনো আলোচনা সামনে না এলেও কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সফরের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকগুলোতে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বেইজিংয়ের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ বাড়ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন ট্রাম্প-শি বৈঠকের দিকেই। অনেকেই মনে করছেন, চীনের সঙ্গে আলোচনার পর ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থানে কোনো কৌশলগত পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।








