বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সবশেষ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও সয়াবিন কিনতে চায় চীন: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সয়াবিন কেনার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। দীর্ঘদিনের শুল্ক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের পর এই পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

চীনে রাষ্ট্রীয় সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত থেকে তেল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অথচ এর আগে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেইজিং অনেকটাই মার্কিন জ্বালানি থেকে সরে যায়। বিশেষ করে ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত চীন তখন খুব সীমিত পরিমাণে মার্কিন তেল কিনেছিল।

শুধু জ্বালানি নয়, কৃষিপণ্য সয়াবিন নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল চীনের প্রধান সয়াবিন সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে চীন ধীরে ধীরে ব্রাজিলের বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর ফলে মার্কিন কৃষকরাও বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছিলেন। এখন আবার সেই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা খাত। ট্রাম্প জানান, তিনি চীনের বিশাল ক্রেডিট কার্ড বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আরও বেশি ব্যবসায়িক সুযোগ চেয়েছেন। বিশেষভাবে ভিসা কার্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক এই আলোচনা কেবল বাণিজ্য নয়, বরং জ্বালানি, কৃষি ও আর্থিক খাতেও নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও বাস্তবে এসব সিদ্ধান্ত কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *