দেশে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাবশালীদের প্রভাবের কারণে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। শুধু ২০২৫ সালেই সারা দেশে ধর্ষণ মামলা হয়েছে ৭ হাজার ৬৮টি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মামলা করতে গিয়েও তাদের হতে হয় অপমান ও চাপের মুখে। বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি, হামলা কিংবা সামাজিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
এমনই এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদের। প্রায় তিন বছর আগে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় এখনও বিচারের অপেক্ষায় আছেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবেও মারধর করা হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমদিকে থানায় মামলা পর্যন্ত নেয়নি পুলিশ।
পরে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। ভুক্তভোগীর দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নিতে তাকে প্রস্তাব দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় চার্জশিট দেয় সিআইডি।
তবে চার্জশিট দাখিল হলেও এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যও কারাগারে যেতে হয়নি প্রধান অভিযুক্তকে। বরং আদালত প্রাঙ্গণেই ভুক্তভোগীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহমুদুল হাসান। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করতেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নারীপক্ষের আইনজীবী কামরুন নাহার বলেন, ধর্ষণের শিকার অধিকাংশ নারীকেই বিচার পাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তার মতে, নির্যাতনের দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; বরং সমাজে তাদের স্বাভাবিকভাবে পুনঃএকীভূত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে না।
অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, ধর্ষণের পর অপরাধীর শাস্তি হওয়ার উদাহরণ খুব কম দেখা যায়। বরং শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যাওয়ার নজির বেশি। ফলে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা বিচারহীনতার সুযোগ নিয়েই এ ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে।








