রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় বুধবার (২৭ মে) সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ থেকে ১২ জন। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি বাসের একটি ছিল পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন এবং অন্যটি গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহন।
সকাল ৬টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকায় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ঢাকামুখী ইসলাম পরিবহনের বাসটি নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। দ্রুতগতির বাসটি সড়কের রোড ডিভাইডারের ওপর উঠে বিপরীত লেনে চলে যায়। পরে উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় আকাশ পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন জানান, নতুন বাজারের নর্দ্দা এলাকায় সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। ইসলাম পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহনের বাসে ধাক্কা দেয়।
তিনি আরও জানান, আকাশ পরিবহনের বাসে যাত্রীসংখ্যা বেশি ছিল। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের আরেক কর্মকর্তা এসআই হাবিব বলেন, দুর্ঘটনার পর ইসলাম পরিবহনের বাসচালক ও হেল্পার পালিয়ে যান। তাদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস রেকারের মাধ্যমে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এদিকে, ইসলাম পরিবহনের বাসের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় আসার পুরো পথজুড়েই বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। চালকের আচরণও ছিল বেপরোয়া। যাত্রীদের বারবার সতর্ক করার পরও তিনি গতি কমাননি বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এলাকায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।








