আর মাত্র এক মাস পর দেশে ফেরার কথা ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক হানিফ মিয়ার (২৫)। পরিবারও তার বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছিল, পাত্রী দেখা চলছিল জোরেশোরে। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই সৌদি আরব থেকে এলো তার মৃত্যুসংবাদ। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো হানিফকে ঘিরে এখন পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে পবিত্র মক্কা নগরীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হানিফ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের মাঝিগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হিরণ মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান হানিফ। সেখানে মক্কার একটি হাসপাতালে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক দিন আগে তার দাদির মৃত্যু হলে তার নামে ওমরা পালন করতে যান। ওমরা শেষে এক বাংলাদেশি সহকর্মীকে নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
হানিফের চাচা বেলাল হোসেন দীলিপ জানান, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর সবাই গাড়ি থেকে নেমে সড়কে দাঁড়ালে পেছন থেকে দ্রুতগতির আরেকটি গাড়ি এসে তাদের দিকে ধেয়ে আসে। তখন তিনজন সড়কের আইল্যান্ডে উঠে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও হানিফ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায়। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে হানিফ ছিলেন সবার বড়। আগামী এক মাসের মধ্যেই দেশে ফিরে বিয়ের পরিকল্পনা ছিল তার। সে লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে পাত্রীও দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সেই আনন্দের অপেক্ষা মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।
স্বজনরা আরও জানান, হানিফের কর্মস্থলের সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।








