নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের কল্যাণ, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইওএম বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন লরা টম বন্ড। বৈঠকে অভিবাসন খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী আইওএমের নতুন চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিতে সংস্থাটির ধারাবাহিক কারিগরি সহায়তা ও পেশাদার ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, অভিবাসন নীতি প্রণয়ন এবং ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের’ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইওএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে জাতীয় ডায়াসপোরা নীতি এবং প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি জানান, ওআইডিএফ ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সমন্বিত অভিবাসী তথ্য ও সেবা ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে অভিবাসন সেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আইএফএডির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘ডায়াসপোরা প্রকল্প’, বিশ্বব্যাংক ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহায়তায় পরিচালিত ‘রেইজ প্রকল্প’ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ বিদেশগমন, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি, তথ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএমের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হবে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বিপুল জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইওএমের কৌশলগত ও কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন লরা টম বন্ড বলেন, জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ একটি অগ্রণী ও দায়িত্বশীল দেশের ভূমিকা পালন করছে। এ জন্য তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের সফল পুনঃএকত্রীকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিতে আইওএম ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ২০টি সুনির্দিষ্ট ধারা আইওএমের বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।








