ইরানের হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার পর চারজন সেনাসদস্যকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আহত অন্য সেনারাও ইতোমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নিহত সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান বা ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও জানায়নি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে টানা অষ্টম রাতের মতো বিমান হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরও দুর্বল করা।
মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে দ্রুত শাস্তি দেওয়াও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান।
শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং তার প্রতি আস্থা রাখারও সুযোগ নেই।
এর আগে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, রাতভর তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে।
শনিবার দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে সেন্টকম নিশ্চিত করে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধের সময় তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
সেনা নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে লেখেন, “ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুন, বীরেরা। তোমাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।”
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরজিসির বরাতে দাবি করেছে, শনিবার ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে সেন্টকমের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।








