সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা খামেনির, ‘এমন জবাব দেওয়া হবে যা তারা কখনো ভুলবে না’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনাও করেন তিনি।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির নামে একটি লিখিত বিবৃতি প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে, তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে প্রমাণ করেছে যে দেশটির প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ’। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মোজতবা খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। তবে ইরানি জনগণ এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ এমন জবাব দিতে প্রস্তুত, যা ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটি ইরানের সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে বলে তেহরানের অভিযোগ।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে দেশটি।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসল চেহারা’ উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির ‘প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা এবং কু-অভিপ্রায়’ প্রকাশ পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। একই সঙ্গে সংঘাত চলাকালে সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এমন খবর সামনে এসেছে যে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী তাদের মিত্র ইরানের সমর্থনে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপও বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। তবে চুক্তির পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ওই সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর বা ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *