ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখক। তার মতে, বর্তমান সংকটে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চেয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের ধরন এবং যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলই বিশ্বকে বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
লেখকের দাবি, ট্রাম্প স্পষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন। ধারাবাহিক বিমান হামলার মাধ্যমে তিনি দ্রুত ফল পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই হামলা ইরানের অবস্থান দুর্বল করার পরিবর্তে দেশটির কট্টরপন্থী শক্তিগুলোকে আরও সংগঠিত করেছে এবং সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করেছে।
লেখক আরও বলেন, ট্রাম্প বারবার এই অভিযানে সফলতার দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, ইরানকে কৌশলগতভাবে কোণঠাসা করা কিংবা বৃহত্তর যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের মতো উদ্দেশ্যগুলো এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তার মতে, ইরানের পাল্টা হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রমাণ করছে যে সংঘাত প্রত্যাশিত পথে এগোয়নি।
এই বিশ্লেষণে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কংগ্রেস, মিত্র দেশ কিংবা সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। বরং দ্রুত বিজয়ের আশ্বাসে আস্থা রেখে এমন একটি সংঘাতে জড়িয়েছেন, যার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না।
লেখক গাজা ও ইউক্রেন ইস্যুর উদাহরণ টেনে বলেছেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। তার অভিযোগ, ট্রাম্প জটিল সংকটগুলোর গভীর কারণ বিশ্লেষণ না করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় না, বরং নতুন সংকট তৈরি করে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন লেখক। তার মতে, চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লেখক আরও মনে করেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
সবশেষে লেখকের উপসংহার, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ইরানের সামরিক শক্তি নয়; বরং ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, অহংকেন্দ্রিক নেতৃত্ব এবং সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব। তার মতে, এই নীতিই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী করার আশঙ্কা তৈরি করছে।








