বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত মাহদীসহ তিনজন, নিরাপত্তার নামে শাস্তির অভিযোগ!

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটকের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর অভিভাবকদের মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়া অন্য দুজন হলেন সংগঠনের সদস্য মীর্জা সুমন ও রাজু আহমেদ। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে থেকে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের অভিভাবকেরা মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মুচলেকায় কী ধরনের শর্ত বা বক্তব্য ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

‘নিরাপত্তার কথা বলে আটকে রাখা হয়েছিল’
ছাড়া পাওয়ার পর মাহদী হাসান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাকে থানায় রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে যাদের কাছ থেকে তার জন্য হুমকি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মাহদীর ভাষায়, ২১ ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে ‘অন্য রকম শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির প্রস্তুতির সময় আটক
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি চলার সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার একদল পুলিশ সেখানে যায়।

পরে মাহদী হাসান, মীর্জা সুমন ও রাজু আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর থেকে আটক তিনজনকে থানায় রাখা হয়।

বাবাসহ অভিভাবকেরা থানায়
মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে মাহদী হাসানের বাবা তৈয়বুর রহমানসহ তিনজনের অভিভাবকেরা থানায় যান। পরে তারা মুচলেকা দিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেন।

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনজনকেই তাদের অভিভাবকেরা মুচলেকা দিয়ে নিয়ে গেছেন। তবে মুচলেকায় কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

আগের বক্তব্য ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী
এর আগে, গত জানুয়ারিতে একটি বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী হাসান। ওই বক্তব্যে তিনি বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং এসআই সন্তোষকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। বক্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তাকে আটক করেছিল। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *