সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

বিদেশে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ: দেশভেদে সুযোগ, সময় ও আয়ের হিসাব

বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ও টিউশন ফিই নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ খণ্ডকালীন চাকরি একদিকে যেমন দৈনন্দিন কিছু খরচ মেটাতে সহায়তা করে, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মপরিবেশের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। তবে কাজের অনুমতি, নির্ধারিত সময় এবং আয় দেশভেদে আলাদা।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন কাজের নিয়মেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

কাজের সময়ের দিক থেকে কোন দেশ এগিয়ে?
শিক্ষার্থীরা কতটা সময় কাজ করতে পারবেন, তা মূলত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র: সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাজটি ক্যাম্পাসের ভেতরেই করতে হয়।

যুক্তরাজ্য: ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি রয়েছে। নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজ করা যায়।

কানাডা: ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করা যায়।

অস্ট্রেলিয়া: দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। সরকারি ছুটির সময়ে এই সীমা প্রযোজ্য নয়।

জার্মানি: বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন অথবা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টার চলাকালে সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে।

কোথায় আয়ের সম্ভাবনা বেশি?
শুধু কাজের সময় নয়, ঘণ্টাপ্রতি মজুরিও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই ধরনের কাজ করেও দেশভেদে আয়ের পরিমাণে বড় পার্থক্য দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যে দক্ষতার কাজেই আয় বেশি। খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১,৮৫০ থেকে ২,৩৫০ টাকা। তবে গণিত, বিজ্ঞান কিংবা ইংরেজিতে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

কানাডায় ক্যাম্পাসভিত্তিক কাজ তুলনামূলক লাভজনক। সাধারণ খণ্ডকালীন চাকরিতে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার বা প্রায় ১,৩৫০ থেকে ১,৬২০ টাকা আয় হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে কাজ করলে আয় বেড়ে ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার আয়ের সুযোগ রয়েছে। দেশটির ন্যূনতম মজুরি অবশ্য প্রদেশভেদে আলাদা।

অস্ট্রেলিয়ায় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার, অর্থাৎ আনুমানিক ২,৪০০ থেকে ২,৬০০ টাকা আয় করতে পারেন। টিউশনে এ আয় আরও বেশি, যা ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। দেশটির তুলনামূলক উচ্চ ন্যূনতম মজুরিও শিক্ষার্থীদের কাছে এসব কাজকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

খণ্ডকালীন আয় দিয়ে কতটা সামলানো সম্ভব?
বিদেশে যাওয়ার আগে খণ্ডকালীন চাকরিকে পুরোপুরি আর্থিক ভরসা হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ রয়েছে। কাজ পাওয়া সবসময় নিশ্চিত নয়, আবার ভিসার নিয়ম অনুযায়ী কাজের সময়ও সীমিত।

তবে নিয়মিত কিছু ব্যয় সামলাতে এ আয় বেশ কার্যকর হতে পারে। বাজার-সদাই, যাতায়াত কিংবা মোবাইল বিলের মতো দৈনন্দিন খরচের একটি অংশ খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে মেটানো সম্ভব। ফলে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা যায়।

তাই বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনায় খণ্ডকালীন চাকরিকে সহায়ক আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করাই বাস্তবসম্মত। দেশ বাছাইয়ের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট স্টুডেন্ট ভিসার কাজের অনুমতি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা এবং স্থানীয় শ্রমবাজারের নিয়ম ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *