বর্তমান সরকারও আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও শাপলা চত্বরে আলেমদের ওপর হামলার মতো ঘটনার পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাসুল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ নিয়ে জাতীয় সীরাত উদ্যাপন কমিটি এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কারও দেওয়া হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করেছে। শেষ পর্যন্ত সেই দায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে তাদের। তার দাবি, ইতিহাসে যারা অপকর্মের দায় নিয়ে পালিয়ে যায়, তারা আর ফিরে আসতে পারে না।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা সেই সময় রাজপথে নেমেছিল, তারা এখনো সজাগ। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লড়াই না ভেবে তিনি এটিকে ভবিষ্যতের বড় লড়াইয়ের মহড়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমিরের অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের অবসান হবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বরং ফ্যাসিবাদের ‘আবর্জনা’ আরও বেড়েছে। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের বিষয় নয়; এটি এমন একটি ‘সংক্রামক ব্যাধি’, যা যে কারও ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গেও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি সবাইকে জাদুঘরটি দেখার আহ্বান জানান। আয়নাঘরের বাস্তবতা সেখানে প্রদর্শিত নমুনার চেয়েও ভয়াবহ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করতে জাদুঘর থেকে কিছু স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিত ব্যক্তিদের ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন সরানোর পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও ফেলানীর স্মৃতিও সেখানে আর নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতায় আসা প্রায় সবাই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের মুখে পড়েছে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সেমিনারে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বিভক্তি তৈরি হলে তৃতীয় কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। আলেমদের পারস্পরিক বিরোধ ও গালমন্দের পেছনে কোনো তৃতীয় শক্তির ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, মদিনার আদলে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
সেমিনারে জাতীয় সীরাত উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, শিক্ষাবিদ ও সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন।








