বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফিরতে পারবেন আটকে পড়া বাংলাদেশিরা, কীভাবে মিলবে অনুমতি?

যুদ্ধজনিত ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে গেলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের প্রবেশের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সম্প্রতি রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে সৌদি আরবে দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং দেশটির আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রীর এ বক্তব্যে সৌদি আরবে যেতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনিশ্চয়তায় থাকা কর্মীদের জন্য নতুন আশার কথা উঠে এসেছে। তবে ঠিক কোন শর্তে তারা প্রবেশের সুযোগ পাবেন, কীভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং এ জন্য আলাদা কোনো আবেদন করতে হবে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

কারা পাবেন সৌদি আরবে ফেরার সুযোগ?
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা এবং পরবর্তী সময়ে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা এ সুযোগের আওতায় আসবেন।

অর্থাৎ, এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া। তবে কত তারিখের ফ্লাইটে যাত্রার কথা ছিল, কোন সময়ের মধ্যে যাত্রা ব্যাহত হয়েছে কিংবা কতজন কর্মী এ সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

ফলে যেসব কর্মী এ পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তাদের নিজেদের ক্ষেত্রে সুবিধাটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

আকামার মেয়াদ শেষ হলে কি নতুন করে অনুমতি নিতে হবে?
মন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে গেলে তাদের প্রবেশের প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

তবে এ বক্তব্যের ভিত্তিতে সবার জন্য নতুন ভিসা, নিয়োগকর্তার অনুমোদন কিংবা অন্য কোনো নথির প্রয়োজন হবে না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।

একইভাবে, যাদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের পুরোনো ভিসার অবস্থা কীভাবে বিবেচনা করা হবে বা কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট করা হয়নি।

তাই শুধু আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নতুন করে সব প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, কিংবা কোনো যাচাই ছাড়াই তারা সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ বলতে কী বোঝায়?
মন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সৌদি আরবে পৌঁছালে তাদের প্রবেশের প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।

এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থায় কর্মীদের তথ্য কীভাবে শনাক্ত করা হবে, তাদের আগের ভিসা বা আকামার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে কি না এবং বিমানবন্দরে আলাদা কোনো নথি দেখাতে হবে কি না, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

এ ছাড়া ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে, নাকি বাস্তবায়নের জন্য আরও কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এখন কর্মীদের কী করা উচিত?
যুদ্ধজনিত ফ্লাইট বিপর্যয়ে সৌদি আরবে যেতে না পারা এবং আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কর্মীদের জন্য আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথির অবস্থা যাচাই করা।

এ ক্ষেত্রে কর্মীরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন,

যে ফ্লাইটে যাত্রার কথা ছিল, তার টিকিট ও ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হওয়ার প্রমাণ সংরক্ষণ করা।
আগের ভিসা, আকামা এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্রের কপি গুছিয়ে রাখা।
সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া।
পুনরায় যাত্রার আগে সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হালনাগাদ নির্দেশনা নেওয়া।

এগুলো সতর্কতামূলক প্রস্তুতি। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় এসব নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়
মন্ত্রীর বক্তব্যে পুনরায় প্রবেশের সুযোগের কথা জানানো হলেও কর্মীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে, কোন সময়ের ফ্লাইট বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা সুবিধাটি পাবেন, পুরোনো ভিসার মেয়াদ কীভাবে বিবেচিত হবে, নিয়োগকর্তার অনুমতি লাগবে কি না এবং প্রবেশের আগে আলাদা আবেদন বা নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে কি না।

এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

সৌদি আরবে যেতে না পারা কর্মীদের জন্য মন্ত্রীর ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে সুবিধাটি পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা নিশ্চিত হওয়াই এখন প্রধান বিষয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ভিসা বা ভ্রমণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের অবস্থার বিষয়ে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *