গায়ে পানি ছিটানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কুয়েতে এক ইয়েমেনি নাগরিককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৪৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তবে কীভাবে সামান্য বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত শনিবার অভিযুক্ত বাংলাদেশি প্রবাসী কুয়েতের শার্ক থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তিনি মুতলা এলাকায় এক ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। থানায় যাওয়ার সময় তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দাবি করেন, নিহত ইয়েমেনি নাগরিক তার গায়ে পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালান এবং গলা কেটে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেন।
ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর মুতলা সিটির নির্দিষ্ট সম্পত্তি বা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে পাবলিক প্রসিকিউশনের প্রতিনিধি, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেখানে উপস্থিত হন। ঘটনাস্থল থেকে গলা কাটা অবস্থায় ইয়েমেনি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্তের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেখার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আত্মসমর্পণের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্ত বাংলাদেশিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। নিহত ব্যক্তির পরিচয়, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট সময় এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি থাকলেও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং দায়ের চূড়ান্ত আইনি নির্ধারণ বাকি রয়েছে।








