প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে এসেছে ৫২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাসের শুরুর তিন দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম তিন দিনের মধ্যে একদিনেই এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স। গত ৩ নভেম্বর প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে মাসের শুরুতেই বৈদেশিক মুদ্রা আসার প্রবাহে ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে।
আগের মাসগুলোতেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ
নভেম্বরের আগে কয়েক মাস ধরেও রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
এর আগের, মাস সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগস্টে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর জুলাই মাসে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
মাসভিত্তিক এই পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিকতা রয়েছে। অক্টোবরের পর নভেম্বরের প্রথম তিন দিনের হিসাবেও সেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অর্থবছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ
শুধু মাসভিত্তিক হিসাবেই নয়, চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৯৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের প্রথম চার মাসের বেশি সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১ হাজার ৫০৮ মিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার ধারাবাহিকতা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের প্রথম তিন দিনের পরিসংখ্যানও রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র তুলে ধরছে।








