বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

এনআইডির জন্য নির্বাচন অফিসে প্রবাসী, দরজা লাগিয়ে পেটালেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত কাজে গিয়ে সরকারি কার্যালয়ের ভেতরেই মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৌদি আরবপ্রবাসী এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে নয়, বরং তার ওপরই মারধরের অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রবাসী রবিউল ইসলাম রবিনের অভিযোগ, বোনের এনআইডি করতে গিয়ে কয়েক দফা হয়রানির পর বুধবার (৪ নভেম্বর) কার্যালয়ের এক কর্মচারী তার কাছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হয়। যদিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম রবিন উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।

ভিডিওতে দেখা গেল ধস্তাধস্তি ও আঘাতের দৃশ্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের কক্ষে কয়েকজন কর্মচারী রবিউল ইসলামকে ধরে রেখেছেন। এ সময় কয়েকজনকে তাকে বারবার আঘাত করতে দেখা যায়। একজন তার গলা চেপে ধরেন। একপর্যায়ে কক্ষের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্মচারীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান।

রবিউলের দাবি, কক্ষের দরজা বন্ধ করে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে দরজা খুলে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বোনের এনআইডি করতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ
রবিউল ইসলাম জানান, তার বোন সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে কার্যালয়ের এক কর্মচারী তার কাছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রবিউল। টাকা দিলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি তার।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশও সেখানে উপস্থিত হয়।

কাগজপত্রে অসংগতির দাবি নির্বাচন কর্মকর্তার
তবে রবিউলকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম। তার দাবি, এনআইডি সংক্রান্ত কাজে রবিউল যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, সেগুলোতে একাধিক অসংগতি রয়েছে।

মিনহাজুল ইসলামের ভাষ্য, রবিউলের বাবা দুটি বিয়ে করলেও ওয়ারিশ সনদে সেই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া রবিউলের বোন স্বপ্নার জন্ম ২০০২ সালে হলেও সংশ্লিষ্ট সনদে ১৯৭৫ সাল লেখা রয়েছে। এসব অসংগতি সংশোধন করে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে কর্মচারীরা রবিউলকে চেয়ারে বসতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিই দেখা গেছে। তবে তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তদন্তের আশ্বাস আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার
ঘটনার বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ওই যুবক নির্বাচন কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে রবিউলের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ, কার্যালয়ের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়েছিল কি না এবং ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *