ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কথিত ‘গোপন সফর’ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত সেই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন এবং সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নেতানিয়াহুর তথাকথিত গোপন সফরের খবর ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। তারা আরও বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে নেই; বরং তা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মতো আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য চুক্তির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়।
অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে ঘিরে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, নেতানিয়াহু এমন একটি বিষয় প্রকাশ্যে এনেছেন, যা ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই দেশটির নেতৃত্বকে জানিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সঙ্গে এ ধরনের ‘আঁতাত’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
রয়টার্স এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বৈঠকটি ওমান সীমান্তসংলগ্ন মরূদ্যান শহর আল-আইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানান, ইরানের হামলা মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহায়তা দিতে ইসরাইল তাদের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অ্যান্টি-মিসাইল ব্যাটারি পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এ সহযোগিতা সম্ভব হয়েছে।








