বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

সবশেষ

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব ওয়াশিংটনের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই সময়ে ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া বার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ এড়াতে আলোচনা ও কূটনীতির পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে ইরান। পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি ওই অঞ্চলে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত মেরিটাইম জোন’ ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কুহ-ই মুবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ পর্যন্ত এবং কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত বিস্তৃত জলসীমায় চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের অনুমতি ও সমন্বয়ের আওতায় চলতে হবে। ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথটিতে তেহরানের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সংঘাত নিরসনে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই খসড়া প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এর আগে ইরানও ওয়াশিংটনের কাছে ১৪ দফা সম্বলিত একটি প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে আলোচনার মধ্যেও চাপের কৌশল থেকে সরে আসেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। তবে সেই খবরকে নাকচ করে ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে “সম্পূর্ণ সঠিক জবাব” এবং একটি “চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব” দিতে হবে, অন্যথায় যেকোনো সময় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতে ইরান সবসময় সংলাপের পথ খোলা রেখেছে। তবে চাপ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক মহল এখন আলোচনার ফলাফলের দিকেই নজর রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *