সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আপিল বিভাগে এ আবেদন দাখিল করেন।
হাইকোর্টের রায়ে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠারও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু করেছিল। তবে পরবর্তীতে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি বাতিল করে দেয়। গত ১৯ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে কর্মরত সিনিয়র সচিবসহ ১৫ কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে স্বাধীন রাখতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। আদালত সরকারকে তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
রায়ে আরও বলা হয়, সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হবে। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে।
বর্তমান সংবিধানে এসব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকলেও তা সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে প্রয়োগের বিধান রয়েছে। আদালত মনে করেন, ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী এবং পরে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই ওই সংশোধনীগুলো বাতিল ঘোষণা করা হয়।
হাইকোর্ট আরও বলেন, অষ্টম ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার নজির অনুসারে ১৯৭২ সালের মূল অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে। একইসঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাতজন আইনজীবী। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট দায়ের করা রিটে তারা বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চান। পরে প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই রায় দেন।








