বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

সবশেষ

রামিসা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দ্রুতই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে রামিসা হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ভাষ্য, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রো-অ্যাকটিভভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, রামিসা হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিচারহীনতার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ক্ষেত্রে বিচার হয় না—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অনেক সময় বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়, যা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তনু হত্যাসহ আলোচিত বিভিন্ন মামলায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে এবং সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো ধরনের অবিচার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে তাৎক্ষণিক আইন প্রণয়ন সবসময় কার্যকর সমাধান নয় বলেও মত দেন তিনি।

এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাগুরার আছিয়া ও ঢাকার রামিসার মতো ঘটনা দেশের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিনি জানান, পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে রামিসার বাবার প্রশ্নের জবাব দেওয়া সম্ভব হবে। তবে বিচারিক কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই; চূড়ান্ত কার্যকর করার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *