শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

সবশেষ

সামরিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল, ইরানে নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কা তীব্র

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে শুক্রবার থেকেই প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

একই সময়ে হোয়াইট হাউস ও সামরিক মহলে অস্বাভাবিক তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য অভিযানের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য মেমোরিয়াল ডে উইকেন্ডের ছুটি বাতিল করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের ব্যক্তিগত সূচিতে পরিবর্তন এনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়েতে অংশ নিতে পারবেন না। নিউ জার্সির গলফ রিসোর্টে সাপ্তাহিক ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ভেস্তে গেলে নতুন হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প ক্রমেই হতাশ হয়ে উঠছেন। কয়েকদিন আগেও যেখানে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিলেন, এখন সেখানে সামরিক বিকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিবিএস ও অ্যাক্সিওস দুই মাধ্যমই জানিয়েছে, হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরান যদি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার ফল কী হতে পারে সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

এর মধ্যেই আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফর। শনিবার সকালে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের এই বৈঠককে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ ধরনের শর্ত আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সমঝোতার পথ কঠিন করে দিচ্ছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে আলোচনার মূল লক্ষ্য সংঘাত কমানো ও যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি করা। পারমাণবিক ইস্যু এখনো চূড়ান্ত আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে উত্তেজনার আভাস দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সুইডেনে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে হবে। হরমুজে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *